Sunday 26 2024

বাংলা ব্যকরণ পদ প্রকরণ

পদ প্রকরণ
পদ প্রকরণ
পদ কাকে বলে?
বাংলা ব্যাকরণের একটি অন্যতম গুরুত্বতম অংশ হচ্ছে পদ। বাক্যে ব্যাবহৃত বিভক্তিযুক্ত যেকোনো শব্দেই পদ (parts of speech) বলে। ৷ সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি অর্থবোধক শব্দকে পদ বলে।

যেমনঃ রহিম স্কুলে যাচ্ছে।  –  এখানে প্রত্যেকটি শব্দই এক একটি পদ।

 

পদের প্রকারভেদ
পদ ( parts of speech) মোট পাঁচ প্রকার। যথা:

বিশেষ্য
সর্বনাম
বিশেষণ
ক্রিয়া 
অব্যয়
বিশেষ্য পদ (Noun)
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

যেমন: আনিস, লবণ, সমিতি ইত্যাদি।

বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা:

নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (Proper Noun): যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, গ্রন্থ ইত্যাদির নাম বা সংজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন: ক. ব্যক্তির নাম: নজরুল, ওমর, আনিস, মাইকেল খ. ভৌগোলিক স্থানের নাম: ঢাকা, দিল্লি, লন্ডন, মক্কা
জাতিবাচক বিশেষ্য (Common Noun): যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।
বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য (Material Noun): যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun): যে পদে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণির সমষ্টি বোঝায় তাই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন: সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল। 
ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun): যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন: গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ)। 
গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun) : যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায় তাই গুণবাচক বিশেষ্য। যেমন: মধুর মিষ্টত্বের গুণ-মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ-তারল্য।
বিশেষণ পদ ( Adjective)
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। যেমন: চলন্ত গাড়ি (বিশেষ্যের বিশেষণ), করুণাময় তুমি (সর্বনামের বিশেষণ), দ্রুত চল (ক্রিয়া বিশেষণ)।

বিশেষণ কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ১. নাম বিশেষণ ও ২. ভাব বিশেষণ ।

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠন করা যায়। যেমন:

ক. ক্রিয়াজাত: হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন

খ. অব্যয়জাত: আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক

গ. সর্বনামজাত: কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি

ঘ. সমাসসিদ্ধ: বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর

ঙ. বীপ্সামূলক: হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা

চ. অনুকার অব্যয়জাত: কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া

বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ে তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে। যেমন: যমুনা একটি দীর্ঘ নদী। পদ্মা দীর্ঘতর কিন্তু মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী।
একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ:
১.  ভালো     বিশেষণ রূপে: ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।

বিশেষ্য রূপে: আপন ভালো সবাই চায়।

২. নিশীথ      বিশেষণ রূপে: নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

বিশেষ্য রূপে: গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

৩.   পুণ্য       বিশেষণ রূপে: তোমার এ পূণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।

বিশেষ্য রূপে: পূণ্যে মতি হোক।

সর্বনাম পদ (Pronoun)
বিশেষ্যের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয় তাকে সর্বনাম পদ বলে।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামকে ১০ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:

১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক:  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে

২. আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি

৩. সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি

৪. দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব

৫. সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ

No comments:

Post a Comment

Greek civilization exercise answer । Ananda Marga school class 4 history Greek civilization question

1. Answer the following questions: • a) Where was Asia Minor? 👉 Asia Minor was located to the north-west of India. • b) Wha...