মধু নামক মাঝিটির নৌকাটি রাজগঞ্জের ঘাটে বেঁধে রাখা আছে। নৌকাটিতে পাট
ভর্তি করে রাখা আছে। সেই কারনে নৌকাটি কারুর কোন কাজে লাগছে না।সেই নৌকাটি
দেখে একটি শিশুর মনে সেটি পাবার জন্য ইচ্ছে জাগে। এখানে কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর
নিজের মনের ইচ্ছে সেই শিশুর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। কবিতায় বলা হয়েছে যে শিশুটি
যদি নৌকাটি পায় তাহলে, প্রথমেই সে তাতে একশো টা দাঁড় লাগাবে ও চারটে ,পাঁচটা ,ছটা
পাল তুলে দেবে। তারপর সেই নৌকা নিয়ে সে হাটে বাজারে ঘুরে বেরিয়ে সময় নষ্ট করবে
না। বরং , সেই নৌকাটি করে সে একটি বারের জন্য সাত সমুদ্র ও তেরো নদী পার হয়ে
যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।অর্থাৎ, কবিতাটির দ্বিতীয় স্তবকটি পড়ে আমরা যা জানলাম
শিশুটি তার মা কে ঘরের এক কোণায় বসে মন খারাপ করে একা একা বসে কাঁদতে বারুন
করছে । কারন, সে রামের মতো দীর্ঘ চোদ্দ বছরের জন্য তার মা কে ছেড়ে বনবাসে চলে যাচ্ছে না ।
সে রাজপুত্রের মতো নৌকা ভর্তি করে সোনা মানিক নিয়ে বাণিজ্য করতে যাচ্ছে । তাছাড়া, তার এই যাত্রাপথে সে একা যাবে না। তার দুই- বন্ধু আশু ও শ্যাম থাকবে তার সাথে । সেই কারনে সে তার মা কে শুধু শুধু চিন্তা করে কাঁদতে মানা করছে। অর্থাৎ কবিতার তৃতীয় স্তবকটি পড়ে আমরা যা জানলামঃ
শিশুটি তার দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে সোনা মানিক ভরা নৌকাটি ভোরের বেলায় ছেড়ে দেবে ।
দেখতে দেখতে সে অনেক দূরে ভেসে চলে যাবে। দুপুর বেলায় তার মা যখন পুকুর ঘাটে থাকবে, তখন শিশুটি নতুন রাজার দেশে পৌঁছে যাবে । তিরপূরনির ঘাট আর তেপান্তরের মাঠ পার করে সে পৌছবে নতুন রাজার দেশে। তারপর সন্ধে বেলায় সে ফিরে আসবে তার মায়ের কাছে। বাড়ি ফিরে আসার পর শিশুটি তার মায়ের কোলে বসে মা কে যাত্রাপথের সমস্ত ঘটনা গল্পর আকারে বলবে।
No comments:
Post a Comment