বর্ষাকাল
আষাঢ় ও শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল। গ্রীষ্মের নিদারুণ দাবদাহের পর বর্ষা আসে তার শীতল বারিধারা নিয়ে। বর্ষার জল পেয়ে প্রকৃতি ও প্রাণী জগৎ নতুন জীবন ফিরে পায়। নদী, নালা, খাল, বিল সব কানায় কানায় ভরে ওঠে। ঘন কালো মেঘে ঢাকা আকাশ, মেঘের গুরুগুরু গর্জন, কালো মেঘে বিদ্যুতের খেলা, কখনো অবিশ্রান্ত বর্ষণ আবার কখনো এক নাগাড়ে কিছু সময় ধরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি, ভেজা বাতাসে কদম, কামিনী, কেয়া ফুলের সুমিষ্ট গন্ধ - এসব বর্ষার রূপ। বৃষ্টির জল পেয়ে চাষিরা চাষের কাজে মেতে ওঠে। বর্ষার রূপ শুধু মনমুগ্ধই করে না, এর রূপের মাঝে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর রূপ। কখনো কখনো অতি বৃষ্টিতে নদীর জল দুকূল ছাপিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলে। সৃষ্টি হয় বন্যার। ঘর বাড়ি, মানুষ জন, খেতের শস্য সব ভেসে যায়। বর্ষায় গ্রামের পথঘাট কাদায় ভরে যায়। অধিক বর্ষণে শহরের রাস্তাগুলিতে বেশ কিছু সময় জল জমে যায়-জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এছাড়া বর্ষায় গরিব লোকেদের খুব কষ্ট হয়, বহু রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। যত দুঃখ কষ্টই থাকুক না কেন বর্ষা আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ঋতু। কারণ এর ধ্বংসের রূপের মাঝে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রূপ।
No comments:
Post a Comment